সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব কেমন ?
Sat. Aug 13th, 2022
সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব

স্বাস্থ্য এবং সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব কেমন ? অনেকগুলো বিষয়ের উপর এটি নির্ভর করে ।  সেগুলোর মধ্যে রমজানের সময়ে মানুষের খাদ্যগ্রহণ ও জীবন যাত্রায় যে পরিবর্তন আসে তা অন্যতম । যদিও রমজান বছরে মাত্র এক মাস স্থায়ী হয় তথাপি এটি খাদ্য ও পুষ্টি গ্রহণে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে । বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে দিনের বেলা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের যে অভ্যাস সেটির পরিবর্তন ঘটায় । নীচে মানুষের স্বাস্থের বিভিন্ন দিক এবং বিভিন্ন রোগের  উপর রমজানের রোজার প্রভাব দেখানো হলো । 

রমজানের সময় কিছু মুসলিমের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসে না । কিন্তু অন্যান্য দের জন্য রমজান বিভিন্ন চিন্তাভাবনা মূলক এবং আধ্যাত্মিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। যেখানে অন্যান্যরা তখনও রাতের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন সোশ্যাল এক্টিভিটিস অথবা ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলির সাথে গল্প গুজব করে কাটায়। কিন্তু একটি দল তখন আধ্যাত্বিকতার চর্চা করে। এই শেষ দলের জন্য রমজান তাদের খাদ্যের গ্রহণ এবং গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসে । এর ফলে তাদের দেহের গঠন এবং ভরের উপর রমজান একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসে । এছাড়াও ডায়াবেটিস ও হৃরোগের উপর প্রভাব ফেলে। রমজানের সময় কিছু মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়ে এবং ক্যাফেইন এবং নিকোটিন ব্যবহারের প্রবণতা কমে। এই পরিবর্তনগুলোর কারণে হৃদরোগের উপর দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী প্রভাব পড়ে । নীচে ভর এবং মেদবৃদ্ধি, ডায়াবেটিস , হৃদরোগ, মানসিক স্বাস্থ্য প্রেগন্যান্সি এবং মাতৃত্বের উপর রমজানের রোজার প্রভাব আলোচনা করা হলো । 

ডায়াবেটিস উপর রোজার প্রভাব

কিছু কিছু মানুষ রমযানের রোযা থেকে অব্যাহতি পায় যদি তারা এমন কোনো রোগে ভুগে যেসকল রোগগুলো রমজানের রোজার মাধ্যমে বিরুপভাবে প্রভাবিত হয় । ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা এই ধরনের লোকেদের মধ্যে অন্যতম । এই ধরনের রোগীদের কে তাদের অসুস্থতার মাত্রার উপর নির্ভর করে এক দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত রোজা না রাখার অনুমতি দেয়া হয় । রমজান মাসে ইসলাম রোযাদার মুসলিমদের ভোরের আগে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয় যাকে বলা হয় সাহরী ।  ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । মুসলিম দেশগুলোর অথবা যেসব দেশে মুসলিম কমিউনিটি বাস করে সেসব দেশের ফিজিশিয়ান দের একটি কঠিন কাজের সন্মুখীন হতে হয়। সেটা হলো যেসব ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের কিভাবে নিরাপদে রোজা রাখবে এবং খাদ্যতালিকাগত ও ওষুধ সেবনের নিয়মাবলী সম্পর্কিত পরামর্শ দিতে হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ইনসুলিন এর মাত্রার উপর নির্ভর করে রোজা রাখার প্রভাব কেমন হতে পারে সে বিষয়ে ফিজিশিয়ান দের একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার । যাতে করে তারা appropriately judge করতে পারে তারা রোগীদের রোজা রাখার অনুমতি দিবে কি দিবে না ।

সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব

রমজানের রোজায় ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন হ্রাস 

বিভিন্ন গবেষকের গবেষণা অনুযায়ী রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন পরিবর্তন সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে। Azizi and Rasouli (1987), Al Nakhi, Al Arouj, Kandari, and Morad (1997), and Athar and Habib (1994)  তাদের গবেষণা পত্রে রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের ওজন হ্রাস দেখিয়েছে । এই  ফলাফলগুলো স্বাস্থ্যকর ব্যক্তিদের উপর রমজানের রোজার প্রভাবের অনুরূপ  (Ramadan, Mousa, & Telahoun, 1994– 1995) । অর্থাৎ রমজানে স্বাস্থ্যকর ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রেও ওজন হ্রাস ঘটে।  অন্যদিকে, Rashed (1992) and Klocker et al. (1997) এর গবেষণায় শরীরের ওজন বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে , কিন্তু Laajam (1990) এর গবেষণায়  দেখানো হয়েছিল শরীরের ওজন কোনো রকম পরিবর্তন ঘটেনি । এবং Sulimani (1991) এর গবেষণার সাথে আবারও মিল ছিল সুস্থ মানুষের ফলাফলের  (Ramadan, 2002; Ramadan and Barac-Nieto, 2000)।

রমজানের রোজার সময়ে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ এর পরিবর্তন  

বেশিরভাগ রোগীর গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন রমজান এবং নন-রমজান মাসের মধ্যে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই  (Azizi, 1996; Laajam, 1990; Mafauzy, Mohammed, Anum, Zulkifli, & Ruhani 1990). । এই  পরিবর্তন  স্বাস্থ্যকর ব্যাক্তির অনুরূপ (রমজান এবং বারাক-নিটো 2000)। কিছু রোগীদের সিরাম , গ্লুকোজ ঘনত্ব হ্রাস বা বৃদ্ধি হতে পারে (Bouguerra et al., 1997; Bagraicik, Yumuk, Damei, & Ozyazar, 1994)। এই তারতম্য খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বা খাদ্যের ধরন,  ওষুধ খাওয়ার সময়ের তারতম্য , ইফতারে খাওয়া,   ব্যায়াম এবং শারীরিক কার্যকলাপের হ্রাস ইত্যাদি কারণে হতে পারে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অধীনে রোগীদের হাইপারগ্লাইসেমিয়া ( যখন গ্লুকোজ লেভেল খুববেশি হয় ) অথবা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ( যখন গ্লুকোজ লেভেল কম হয় )   তীব্র জটিলতা দেখা যায় না (Al Nakhi et al., 1997; Davidson 1979; Sulimani, 1991) , এবং জৈব রাসায়নিকের মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত বিপদ ছাড়া হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর রিপোর্ট করা হয়েছে অর্থাৎ এ ধরনের সমস্যায় ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি (Salman, Abdallah, & Al Howasi, 1992)। সাধারনত রক্তরসে গ্লুকোজের ঘনত্ব সনাক্ত করার জন্য Glycated hemoglobin ( HbA1c) নামের এক প্রকার hemoglobin পরিমাপ করা হয় । (HbA1c) test এর মাধ্যমে গত 2 থেকে 3 মাসের রক্তে সুগার এর গড়মাত্রা জানা যায় । এই টেস্ট এর ফলাফল থেকে দেখা যায়, রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তরসে গ্লুকোজ এর ঘনত্বের মাত্রার তেমন কোনো পরিবর্তন আসে না বরং কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয় ।  (Al Hader, Abu-Farsakh, Khatib, & Hassan, 1994; Dehghan, Nafarabadi, Navai, & Azizi 1994)। শুধুমাত্র দুইটি গবেষণায় glycated haemoglobin এর সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে ।   (Belkhadir et al., 1993; Uysal, Erdogan, Sahin, Kamel, & Erdogan 1997) । 

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখার পরামর্শ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে চান তাদের কি কি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রোজা রাখার অনুমতি দেয়া হবে সে বিষয়ে কিছু নির্দেশিকা দেয়া হয়েছে । যেসকল ফিজিশিয়ান রা মুসলিম ডায়েবেটিস রোগীদের নিয়ে কাজ করছে তাদের উচিত যে যে মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে একজন রোগীকে রোজা রাখার অনুমতি দেয়া হবে তা স্থির করা ।  বেশ কিছু গবেষণায় দেখানো হয়েছে কি কি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একজন ডায়েবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারেন। (Athar & Habib, 1994; Das, 2011; Ibrahim & Abdulhameed, 2010; Kobeissy, Zantout, & Azar, 2008; Omar & Motala, 1997). Brittle type l diabetics অর্থাৎ যেসকল রোগীদের ডায়েবেটিস মারাত্মক ভাবে অনিয়ন্ত্রিত এবং মারাত্মক ভাবে অনিয়ন্ত্রিত type l l diabetics রোগীদের জন্য রোজা না রাখা উচিৎ । এছাড়া গুরুতর জটিলতা আছে যেসব রোগীর যেমন যেসব রোগীদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ আছে , diabetic ketoacidosis রোগী (ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর জটিলতা যা জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে ) , গর্ভবতী diabetic রোগী , যেসকল রোগীদের unstable angina আছে তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা উচিত । এছাড়া এধরণের জটিলতা মুক্ত রোগিদের রোজা রাখার অনুমতি দেয়া উচিত। 

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য: হৃদযন্ত্রের রোগীদের জন্য রমযানের রোযার  প্রভাব 

রমজান মাসে হৃদরোগের ঘটনা ঘটে কিনা সে বিষয়ে কিছু গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছিল। যেসকল রোগী পূর্ব থেকে স্থায়ী ভাবে হৃদরোগে ভুগছেন অথবা যেসব রোগীর হৃদরোগের পূর্ববর্তী রেকর্ড রয়েছে তারা ব্যতীত হৃদরোগের তেমন কোনো ইতিহাস চোখে পড়েনি। তুরস্কের আঙ্কারায় একটি emergency department এ রোগিদের ভর্তির বিষয়ে গবেষণা চালানো হয়েছিল । সেখানে জরিপে দেখা গেছে রমজান মাসে একটি ক্ষুদ্র সংখ্যক রোগী coronary সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছে । রমজান মাসে অথবা রমজান মাসের আগে বা পরে রোগীদের ভর্তি হওয়ার অনুপাতে তেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় না । এবং গবেষণার author লিখেছেন রোজা রাখার কারণে তীব্র করোনারি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় না  (Temizhan, Donderici, Ouz, & Demirbas 1999)।

 Al Suwaidi, Bener, Hajar, and Numan (2004) , 1991 থেকে টানা 10 বছর কাতারে বসবাসরত কাতারবাসির উপর একটি পরীক্ষা চালায় । সেখানে কাতারে সমস্ত হাসপাতালের রোগীদের ভর্তির medical records থেকে শুধুমাত্র congestive heart failure এর জন্য ভর্তি হওয়া রোগিদের রেকর্ড আলাদা করেন । এ সময়ের মধ্যে কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর এর জন্য মোট 2160 রোগী ভর্তি হয়েছিল । Congestive heart failure এর জন্য রমজান মাসে ( ২০৮ ক্ষেত্রে ) ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা তার পূর্বের মাস (১৮২ ক্ষেত্রে ) এবং পরের মাস (১৯৮ ক্ষেত্রে ) এ ভর্তি হওয়া রোগীর তুলনায় খুব বেশি পার্থক্য ছিল না । Congestive heart failure এর কারনে মৃত্যুবরণকারি রোগীর সংখ্যাতেও তেমন পার্থক্য ছিল না । Bener et al. (2006a,b,c) ১৩ বছরের স্ট্রোক ডাটাবেজ এর পর্যালোচনা করেন এবং স্ট্রোকের জন্য ভর্তি হওয়া মুসলিম রোগিদের ডাটার উপরে গবেষণা করেন । রমজান মাসে (২৯ ক্ষেত্রে ) স্ট্রোকের জন্য ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যায় এর আগের মাস ( 29 ক্ষেত্রে ) এবং পরের মাস (৩০) ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই ।

 এই অনুসন্ধানের বিপরীতে, Saadatnia, Zare, Fatehi, and Ahmadi (2009) রমজান মাসে সেরিব্রাল ভেনাস সাইনাস থ্রম্বোসিসের হারে একটি বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন ।  2001 থেকে 2006 পর্যন্ত রোজার মাসে (৫.৫ ক্ষেত্রে)  ৩ টি neurological centres এ স্নায়বিক রোগী ভর্তির গড় সংখ্যা অন্যান্য মাস (১.৯৫/ মাস) থেকে বেশি ছিল । 

উচ্চ  রক্তচাপে রোজার প্রভাব 

সাধারণ এবং উচ্চ রক্তচাপযুক্ত উভয় ব্যক্তির রক্তচাপ (বিপি) নিয়ে গবেষণায় সাধারণত রোজার প্রভাব কম দেখা যায় অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তচাপের উপর রমজানের রোজার কোন প্রভাব নেই। 99 জন উচ্চ রক্তচাপ রোগীর একটি ব্যাপক গবেষণায় Habbal, Azzouzi, Adnan, Tahiri, and Chraibi (1998) রমজানের সময়ে এবং এর আগে 24 ঘণ্টায় সিস্টোলিক বা ডায়াস্টোলিক চাপের পরিমাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুজে পায়নি ।. Ural et al. (2008) রমজান এবং রমজানের এক মাস পরে রক্তচাপ পরিমাপ করে কোনো পার্থক্য খুজে পায়নি , যদিও ভোরের আগে সকালের খাবার খাওয়ার সময় গড় ধমনী চাপে একটি ছোট বৃদ্ধি ছিল । বিপরীতে, Unalacak et al. (2011) দ্বারা একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়  রমজানের রোজার পর স্থূল রোগী এবং একটি সুস্থ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তির উভয়ের সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক উভয় ক্ষেত্রেই হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে । 

সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব

এই পর্যবেক্ষণলব্ধ গবেষণা থেকে পাওয়া প্রমাণের ভারসাম্য থাকা সত্ত্বেও , কিছু Epidemiological সংক্রান্ত রেকর্ডও আছে । Topacoglu et al. (2005) দেখান যে , উচ্চ রক্তচাপের জন্য রোগিদের হাসপাতালে আসা 

এবং uncomplicated মাথাব্যথার হার অন্যান্য মাস থেকে রমজান মাসে বেশি ছিল । 

গর্ভকালীন সময় রোজা

অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ গর্ভাবস্থায় প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন , এমনকি তৃতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যেও, এবং জন্ম দেওয়ার পরে খুব শীঘ্রই প্রশিক্ষণ পুনরায় শুরু করে । যেহেতু প্রতি বছর রমজান এক মাস স্থায়ী হয়, রমজানের রোজা প্রতি চারজনের ক্ষেত্রে  তিনটি গর্ভাবস্থার সাথে ওভারল্যাপ করবে । নারী যারা সবেমাত্র জন্ম দিয়েছেন বা যারা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তারা সাধারণত

রোজা থেকে অব্যাহতি পায় । তবে, গর্ভবতী মহিলাদেরও রোজা থেকে  অব্যাহতি হতে পারে । গর্ভবতী মহিলাদের সাধারণত নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় এবং ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করা থেকে  নিরুৎসাহিত করা হয় ।  কেননা এর সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে বিপাকীয় পরিবর্তন ভ্রূণের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের উপর (বিশেষ করে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার এর বিকাশ অর্থাৎ ভ্রূণের রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যেতে পারে) । 

রোজা রাখার প্রভাব সম্পর্কে যে প্রমাণগুলো দাড় করানো হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।  এটা হতে পারে কারণ সাধারনত প্রমাণের ভিত্তি সীমিত: সম্ভাব্য গবেষণা গুলো বেশিরভাগই ছোট এবং হতে পারে যে এই ছোট গবেষণা গুলোতে  ছোট ছোট প্রভাব সনাক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি ।  

 Epidemiological জরিপে  প্রায়ই বিস্তারিত তথ্যের  অভাব ছিল যে কি মাত্রায় রোজা পালন করা হয়েছিল।

একটি সাম্প্রতিক ব্যাপক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, 

মিশিগান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বসবাসরত আরব মহিলাদের মধ্যে রমজানে প্রসবপূর্ব রোজা রাখার ফলে শিশুর ওজন কম হয় এবং যে মায়েরা গর্ভাবস্থার প্রথম মাসে রোজা রাখেন তাদের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হওয়ার আশা খুব কম থাকে  (Almond & Mazumder, 2011)। 

উগান্ডার এবং ইরাকের মুসলমানদের উপর করা গবেষণা থেকে প্রাপ্ত Epidemiological সংক্রান্ত  তথ্য থেকে পাওয়া যায় (অমুসলিম মায়েদের সমসাময়িক জন্মের তুলনায়) তাদের প্রাপ্তবয়স্কদের অক্ষমতার 20% বেশি সুযোগ আছে যদি তাদের গর্ভাবস্থার প্রথম সময়গুলো রমজানের মধ্যে পড়ে । এবং এই প্রভাবগুলো জানার স্বল্পতার জন্য ঘটে । 

এই ফলাফলগুলি দেখায় যে , রমজানের রোজা

গর্ভধারণের সময় এবং গর্ভাবস্থায় তীব্র এবং অবিরাম উভয় প্রভাব ফেলতে পারে যদিও এই সমীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে ঐসকল নারীরা আসলে রোজা পালন করেছেন। এটি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য যারা রোজা পালনের সময় তারা যে গর্ভবতী এ বিষয়ে অনবগত ছিল । এইউদ্বেগ কিছু মাত্রা  দ্বারা কমানো যেতে পারে।   

Azizi, Sadeghipour, Siahkolah, and Rezaei-Ghaleh (2004), তাদের গবেষণায় দেখান যে যেসকল নারীরা গর্ভাবস্থায় রোযা রেখেছিল তাদের 3-13 বছর বয়সী শিশু দের IQ এর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেনি । তবুও, উপরে উল্লিখিত রিপোর্ট থেকে শিশুদের IQ এর দীর্ঘময়াদি প্রতিকূল প্রভাব থেকে স্বল্পমেয়াদী প্রভাব গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে । 

উপসংহার 

 যেসকল মানুষ অসুস্থ এবং রোজা যাদের স্বাস্থের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে তারা রোজা থেকে বিরত থাকতে পারেন । তবে যখন তারা সুস্থ হবে তারা তাদের বাদপড়া রোযা গুলো অবশ্যই আদায় করে নিবে।  স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক এবং ঝুঁকির কারণগুলির জন্য  সুস্বাস্থের উপর রোজার প্রভাব নিয়ে লেখা গবেষণা গুলোর ফলাফল প্রায়ই পরস্পরবিরোধী। এটি সম্ভবত, বিভিন্ন জনগোষ্ঠির  ভিন্ন উপায়ে রমজানের রোজা পালন করার জন্য , গবেষণা গুলোর নকশায় পার্থক্য থাকার কারণে , ঋতু এবং জলবায়ুগত পার্থক্য, এবং যে সকল মানুষের উপর গবেষণা করা হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য, ফিটনেস এবং কার্যকলাপের মাত্রার পার্থক্যের কারণে ঘটেছে । 

যেসকল রোগীর খারাপভাবে নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আছে এবং যারা ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণ করে তাদেরকে রোজা  না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যেহেতু ঐ সকল রোগীর জন্য ইনসুলিন গ্রহণ না করা স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদী উভয় ধরনের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক  ঝুঁকিপূর্ণ । ট্যাবলেট ব্যবহার করার মাধ্যমে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে রমজানের আগে তাদের অবশ্যই চিকিসকের সাথে দেখা করা উচিৎ তাদের ওষুধের নিয়মে যে কোনো সম্ভাব্য পরিবর্তন আনার জন্য যাতে তারা একটি নিরাপদ রোজা কাটাতে পারে । রোযাদার ডায়াবেটিস রোগী বিশেষকরে অ্যাথলেট দের নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ পরিক্ষা করার জন্য বিশেভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । 

রেফারেন্স :

The implications of Ramadan fasting for human health and well-being , June 2012Journal of Sports Sciences 30(S1):S9-S19

Leave a Reply

Your email address will not be published.