শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল পরীক্ষা - YMC
Thu. Jul 7th, 2022
YMC

কুকুর বা বিড়ালের গল্পে সাহিত্য ভরপুর । তাহলে বিজ্ঞানে বাদ পড়বে কেন । স্রোডিঞ্জার বিড়াল গল্পটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল । নিচে স্রোডিঞ্জার বিড়াল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো । আইনস্টাইন রীতিমতো কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিরোধিতা শুরু করেন । একদিকে বোর , ম্যাক্স ‌‌বর্ন , পাউলি , ডিরাক , হাইজেনবার্গ কোয়ান্টাম মেকানিক্সের পক্ষে , অন্যদিকে আইনস্টাইন এবং স্রোডিঞ্জার বিপক্ষে । হ্যাঁ , স্রোডিঞ্জার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জনক । তার সমীকরণ থেকে বের হয়ে এসেছে অনিশ্চয়তার সূত্র । স্রোডিঞ্জার অনিশ্চয়তা নীতি এবং তার সমীকরণ থেকে প্রাপ্ত সম্ভাবনার ধারণা মানতে পারেন নাই । সোডিঞ্জার ঠিক করলেন তার সমীকরণ ভুল প্রমাণ করবেন । তাই তিনি একটা thought Experiment দিলেন সেটা বিজ্ঞানে শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল পরীক্ষা নামে পরিচিত।

স্রোডিঞ্জার একটি বিড়ালকে বাক্সে বন্দি করলেন । বাক্সের ভিতর একটি হাইড্রোসায়ানিক বিষ রেখে দিলেন । বাক্সের ভিতরের দিকের দেয়ালের সাথে একটি হাতুড়ি হালকা ভাবে বেঁধে দিলেন এবং তার সাথে কিছু তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেখে দিলেন । এখন যদি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সংঘটিত হয় তাহলে নি:সৃত বিকিরণ হাতুড়িকে নাড়িয়ে দিবে । হাতুড়ি আঘাত করবে বিষ পাত্রে । বিষের কারণে বাক্সের বিড়াল মারা যাবে । সম্ভাবনা আছে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সংঘটিত হবে , হাতুড়ি বিষের পাত্রকে আঘাত করবে । বিড়াল মারা যাবে । সম্ভাবনা আছে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সংঘটিত হবে না , যার ফলে হাতুড়ি নড়বে না , বিষের পাত্র ভাঙবে না , বিড়াল মরবে না । এখন বাক্সে বিড়াল দুইটা সুপারপজিসনস আকারে আছে । বাক্সে বিড়াল জীবিত ও মৃত অবস্থায় আছে । বাক্স খোলার পর বিড়াল মৃত নাকি জীবিত হবে সেটা নির্ভর করবে আপনার দেখার উপর । এবার দরুন বাক্স খোলার পর আপনি দেখলে বিড়ালটি জীবিত । এক্ষেত্রে আপনি বাক্সটি খুলেছেন তাই বিড়ালকে জীবিত দেখছেন । আপনি বাক্স না খুললে বিড়াল একই সাথে জীবিত ও মৃত থাকত । আপনার পর্যবেক্ষণের জন্য বিড়াল সুনির্দিষ্ট রূপ ধারণ করেছে । স্রোডিঞ্জার এই প্রশ্ন বোরকে করলেন , বিজ্ঞান কি পর্যবেক্ষণ যোগ্য হতে পারে ? পর্যবেক্ষকের দেখার উপর কি বিড়ালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে । বিজ্ঞান বলে আপনি গহীন জঙ্গলে যান অথবা না যান গাছটা ভেঙেছে । আপনি গহীন জঙ্গলে গেলেন এমতাবস্থায় একটি গাছ ভেঙে পড়লো , আপনি নিজের চোখ দিয়ে দেখছেন তার মানে গাছটি ভেঙেছে । আপনি যদি জঙ্গলে না যেতেন তাহলে গাছটি ভাঙতে দেখতেন না তখন কি গাছ ভাঙবে না ? আপনার দেখার উপর গাছের ভাগ্য নির্ভর করবে না । স্রোডিঞ্জার বললেন বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করবে না । তেজস্ক্রিয় বিকিরনের ঘটনা কোয়ান্টাম জগতের অংশ । তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটবে অথবা ঘটবে না সেটা নির্ভর করবে আপনার উপর । আপনি তেজস্ক্রিয় বিকিরনের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন তাই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটবে অথবা ঘটবে না । ধরুন আপনার পর্যবেক্ষণকালে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঘটনা ঘটে নাই । আপনি পর্যবেক্ষণ করছেন তাই বিড়াল মরে নাই । আপনি বাক্স খুলে পর্যবেক্ষণ করছেন তাই তরঙ্গ ফাংশন (collapse) করবে । এখানে কোন পর্যবেক্ষকের উপর নির্ভর করবে ? তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঘটনাটিতে বিড়াল নিজেই যদি পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করে তাহলে তরঙ্গ ফাংশন(collapse) করে করবে? বিড়াল যেকোনো সুনির্দিষ্ট রূপ ( জীবিত অথবা মৃত ) ধারন করবে না কেন ? ধরুন বিড়ালের পর্যবেক্ষনের ফলে বিড়াল সুপারপজিসন্স একটি অবস্থা অর্থাৎ মৃত রূপ ধারণ করল । আপনি , আমি ঘটনাটি অনেক পরে পর্যবেক্ষণ করলাম , এক্ষেত্রে কোন পর্যবেক্ষকের উপর তরঙ্গ ফাংশন (collapse ) নির্ভর করবে । বিড়ালের কথা বাদ দিন । আপনি যদি একটি বদ্ধ ঘরে থাকেন এবং একই তেজস্ক্রিয় ঘটনা ঘটে তাহলে কি হবে ? কার পর্যবেক্ষণের ওপর আপনার ভাগ্য নির্ধারিত হবে ? আপনি কি নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি বাঁচবেন কিনা মরবেন?২.ব্যাপারটা আমরা দ্বিচির পরীক্ষা দিয়ে একবার উদাহরণ দেই । দ্বিচিরের A ও B নামক দুইটা ছিদ্র আছে । A ছিদ্র দিয়ে ইলেক্ট্রন গেলে বিড়াল বেঁচে থাকবে । B ছিদ্র দিয়ে ইলেক্ট্রন গেলে বিড়াল মারা যাবে । এখন ইলেকট্রন gun থেকে ইলেকট্রন নিক্ষেপ করা হলো । এমন অবস্থায় চিরের সামনে কোনো ডিটেক্টর নেই । অতএব ইলেকট্রন একই সাথে দুই ছিদ্র দিয়ে যাবে যার ফলে বিড়াল একসাথে জীবিত ও মৃত । চিরের সামনে ডিটেক্টর বসানো হলো । ডিটেক্টর বসানোর ফলে ইলেকট্রন কণা হয়ে A ছিদ্র দিয়ে গেল । অতএব বিড়াল বেঁচে আছে। ডিটেক্টর বসানোর ফলে ইলেকট্রনের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে যার ফলে বিড়াল সুনির্দিষ্ট রূপ ধারণ করেছে ।

এই সব কাহিনী দেখে আইনস্টাইন রেখে গিয়ে বললেন ” আমি যদি আকাশে না তাকাই তাহলে কি চাঁদটা কি আকাশে থাকবে না ?”

Leave a Reply

Your email address will not be published.