মেনি ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রিটেশন । বহু মহাবিশ্ব - YMC
Thu. Jul 7th, 2022

1952  সালে এরভিন স্রোডিঞ্জার একটি ভাষণ দিয়েছিলেন , যেখানে তিনি কৌতুক করে তার শ্রোতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে তিনি যা বলতে যাচ্ছেন তা হয়তো ‘ উন্মাদের কথা বলে মনে হবে । তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তার সমীকরণ তাকে নোবেল পুরস্কার জিতিয়েছে । যদিও মনে হতে পারে সেটা ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ইতিহাসকে বিবৃত করছে, সেগুলি “ভিন্ন ভিন্ন সময়ের নয় বরং সবগুলি ইতিহাস একই সাথে ঘটে” ।এটিই ,জানা মতে,বহু-জগতের সর্বপ্রথম তথ্য । 

কিছু পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনা ঘটে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল পরীক্ষার মাধ্যমে এটা উঠে এসেছে । সোডিঞ্জার বিড়াল পরীক্ষা আগে পরে আসতে হবে আমি সংক্ষিপ্ত বলি ,  একটা বাক্সে বদ্ধ অবস্থা বিড়াল রয়েছে । বাক্সের ভিতরে বিষ ও হাতুড়ি  রয়েছে এখন কোয়ান্টাম ইফেক্টের জন্য হাতুড়ির আঘাতে বিষের পাত্র ভাঙবে অথবা ভাঙবে না । কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী বিষের পাত্র ভাঙতে পারে আবার নাও পারে সুতরাং বিড়াল মরতেও পারে অথবা জীবিত হতে থাকতে পারে । যখন আমরা অবজার্ভ করি তখন বিড়াল একটা অবস্থা এসে হাজির হয় ।

আবার ইলেকট্রন দিয়ে দ্বিচির পরীক্ষা করলে দেখা যায় ইলেকট্রন অবজার্ভ করার আগ মুহূর্তে একই সাথে দুইটা ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে কিন্তু যখনি অবজার্ভ করে তখনি ইলেকট্রন একটি অবস্থা চলে আসে আর অন্য ঘটনা ধ্বংস হয় । এই যে প্রশ্ন হলো যে দুইটা ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনা কেনো ঘটলো ? অন্য ঘটনা কি কোনদিন ঘটবে না ? এর জন্য মূলত মেনি ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রিটেশন দায়ী ( কণার আচরণের প্রভাবে প্যারালাল মহাবিশ্ব , সুপার ডিটারমিনিজম সম্পর্ক এর সাথে সম্পর্কিত পোস্ট পড়ুন) ।

আপেক্ষিক অবস্থা গঠনের ধারণাটি হিউ এভারেট 1957 সালে প্রদান করেন।  পরবর্তীতে 1960 এবং 1970-এর দশকে এই ধারণাটি বহুবিশ্ব তত্ত্ব নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেব্রাইস সেলিগম্যান ডিউইট এর দৌলতে।  কোয়ান্টাম তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম অসঙ্গতির(Quantum Decoherence ) পন্থাগুলি আরও অন্বেষিত ও বিকশিত হয়েছে, যেগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমডাব্লুআইআই পদার্থবিজ্ঞান এবং দর্শনের অনেক-গুলি মাল্টিভার্স অনুমানের(multiverse hypotheses) মধ্যে একটি। এটি বর্তমানে অন্যান্য কোয়ান্টাম অসঙ্গতির ব্যাখ্যাসমূহ, পতনের(collapse theories) তত্ত্বসমূহ ঐতিহাসিক কোপেনহেগেন ব্যাখ্যা (Copenhagen interpretation) এবং বোহমিয়ান মেকানিক্সের(Bohmian mechanics) মতো গুপ্ত চলক তত্ত্বগুলির(hidden variable theories) সাথে এটি মূলধারার ব্যাখ্যা হিসাবে বিবেচিত হয়।

বহু-জগতের আগে বাস্তবতা সবসময়ই একটি একক প্রকাশিত ইতিহাস হিসাবে দেখা হত। বহু-জগত ধারণা ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে বহু শাখাবিশিষ্ট গাছের মতো চিন্তা করে , যেখানে প্রতিটি সম্ভাব্য কোয়ান্টাম ফলাফলকে হিসাবে নেওয়া হয়।  বহুবিশ্ব কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নিশ্চয়তাবাদী সমীকরণসমূহের সাথে এলোমেলো তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মতো ঘটনাগুলোর পর্যবেক্ষণ হতে প্রাপ্ত অনিশ্চয়তাবাদী ফলাফলগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।

বহুবিশ্বে কোয়ান্টাম অসঙ্গতির প্রক্রিয়া দ্বারা তরঙ্গ পতনের বিষয়গত উপস্থিতিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এবং যেহেতু প্রতিটি ঘটনা বা ইভেন্টেরই প্রতিটি সম্ভাব্য ফলাফল তার নিজস্ব “ইতিহাস” বা “বিশ্বে” সংজ্ঞায়িত বা উপস্থিত থাকে, তাই এটি কোয়ান্টাম তত্ত্বের সমস্ত পারস্পরিক সম্পর্কের প্যারাডক্স (যেমন ইপিআর প্যারাডক্স  এবং “শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল“) সমাধানের উপায় বাতলে দেয় , ।

কি ঘটে অবজার্ভ করার পরে ?

1 নং ছিদ্র দিয়ে ইলেকট্রন গেলে 2 নং ছিদ্র দিয়ে যায় না কেন ? ইলেকট্রন উচিত ছিল তখন 2 ছিদ্র দিয়ে যাওয়া কারণ এমন তো হয়নি ইলেকট্রন 1 ছিদ্র বরাবর গিয়েছিল । বিড়াল জীবিত হলে বিড়ালের কি ঘটে ? 

আপনি যখন অবজার্ভ করবেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মেনি ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রিটেশনের মতে তখন ইউনিভার্স দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে । একটা ইউনিভার্সে ইলেকট্রন 1 নং ছিদ্র দিয়ে যাবে তখন ইউনিভার্স দুই ভাগ হয়ে অন্য ইলেকট্রনটি 2 নং ছিদ্র দিয়ে যাবে  । একটা ইউনিভার্সে বিড়াল জীবিত হলে অন্য ইউনিভার্সে বিড়াল মৃত হবে । মনে করুন আপনি রাস্তা দিয়ে গেছেন । পথিমধ্যে রাস্তা দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে গেল । যদি আপনি প্রথম রাস্তা দিয়ে যান তাহলে ইউনিভার্স দুটি ভাগে ভাগ হয়ে অন্য ইউনিভার্সে আপনি দ্বিতীয় রাস্তা দিয়ে যাবেন । আপনি যেকোনো একটি রাস্তা দিয়ে ঢোকার পর তখনই ইউনিভার্স ভাগ হয়ে যাবে।

 একটি মহাবিশ্বের একটি ফলাফল হলে অন্য মহাবিশ্বে বাকি ফলাফল হবে । ছক্কা নিক্ষেপ করলে প্রতিটি ফলাফলের জন্য একটি করে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয় । আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিনিয়ত অসংখ্যভাবে মহাবিশ্ব যাচ্ছে । সেই বিগ ব্যাং এর শুরু থেকে হয়তো মহাবিশ্ব প্রতিটি কণার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন করে ভাগ হচ্ছে । হয়তো বিগ ব্যাং এর সময় মহাবিশ্ব দুইটি ভাগে ভাগ হয়েছে একটিতে সময় চলে সামনের দিকে এবং অন্যটিতে সময় চলে পিছনের দিকে । আমাদের চিন্তা এবং চেতনার কারণে মহাবিশ্ব অসংখ্যভাবে অসংখ্যক ভাগে ভাগ হচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published.