Thu. Oct 28th, 2021
YMC-superdeterminism

প্রথমেই বলে রাখি দুনিয়া কেমন আমরা তা জানি না ,হতে পারে দুনিয়াতে ঘটমান ঘটনা সমূহের সব বাস্তব অথবা সবই নাটক  । কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী আমরা এই দুনিয়াকে বোঝার চেষ্টা করবো । দুনিয়াতে আমরা কোনো মিথ্যা জিনিসকে সত্য মনে করতে পারি যদি আমাদের কাছে আসল তথ্য লুকানো থাকে । নিচের উদাহরণটা দেখুন। 

বনে একটা বাঘ ঘুরছে আর অন্যদিকে হরিণ ঘাস খাচ্ছে । যখন হরিণ বাঘকে দেখবে , হরিণ তখন দৌড় দিবে । দেখে মনে হবে এটা সত্য এবং   হরিণের নিজের স্বাধীনতা আছে । এবার এটা ভিডিও ধারণ করুন । যারা মুভি ফিল্মে কাজ করে তারা জানে একটা ফিল্ম তৈরি করতে এর পিছনে কি কি মিথ্যা কাজ করতে হয় । মিথ্যা বলতে , ফিল্মের দৃশ্য -কেউ মারা যাওয়া , মাইর খাওয়া ,মাইর দেওয়া ইত‍্যাদি । কিন্তু এগুলো ভিডিও আকারে ধারণ করলে মনে হয় এটাই জগতের সত্য । একটু আগের সেই বাঘ আর হরিণের কথাই বলি । এইবার আর প্রকৃতির হরিণ বাঘ নয় । এটা মানুষের তৈরি বাঘ হরিণ । একজন ফিল্ম ডিরেক্টর এর পিছনে কিছু রুল আগে থেকে দিয়ে দিবে । যারা অভিনয় করবে তারা নিজের স্বাধীনতার থেকে রুলকে বেশি প্রাধান্য দিবে । একটা মানুষকে দিয়ে সেই জঙ্গলে একই ভাবে একটা হরিণের পোশাক পড়িয়ে ঘাস খাওয়ানোর দৃশ্য বানানো হলো । এখন এই কৃত্রিম হরিণকে বলা হলো যখন বাঘ দেখবে তখন দৌড় দিতে হবে । আবার কৃত্রিম বাঘ বানানো হলো এবং বলা হলো 12 টা বাজলে কৃত্রিম হরিণকে তাড়া করতে হবে । যখন এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করা হবে তখন বাহিরের কোনো দর্শক এটা দেখে মনে করবে এটা বাস্তব । এখন যারা ফিল্ম সম্পর্কে জানে তারা বুঝবে এটা বানানো । হোক সেটা কৃত্রিম পদ্ধতি বাঘ- হরিণ অথবা প্রকৃতি বাঘ – হরিণ দুইটা দৃশ্য কিন্তু একদম একই । হতে পারে এমন ভাবেই তৈরি প্রকৃতির হরিণ আর প্রকৃতির বাঘ । সবকিছু এমন ভাবে সাজানো যা আমরা দেখে মনে করি এটা বাস্তব । হতে পারে আমি , আপনি এমন রুলস অনুযায়ীই চলি কিন্তু সেটা আমরা বুঝতে পারি না । পুরোটা নাটক একটা খেলা। 

রায়হান free fire গেমস খেলছে । সে দেখতে পেলো ফ্রি ফায়ার গেমসের মানুষগুলো বানানো পুতুল যেভাবে নাচায় সেভাবে নাচে । আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা গেলে দূরের দূরের বিল্ডিংগুলো লোড হয়ে হাজির হয় । রায়হান বাটনে ক্লিক করা মাত্র প্লিয়ার সে অনুযায়ী আউটপুট দেয় , প্লিয়ারের হাঁটা  চলা দেখে মনে হয় এটা রিয়াল মানুষ । গেমের মানুষ আর আমাদের দুনিয়ার মানুষ প্রায় সেম । গেম সে ডিভাইস দিয়ে খেলা হয় তার যার্ম/রেম কম তাই স্লো করে । যদি ডিভাইস ভালো হতো তাহলে কোনো স্লো নেই , তখন দেখে মনে হবে সত্যিকার মানুষ । একটা স্ক্রিন রেকর্ড করা গেমের ভিডিও আর একটা মানুষের tiktok ভিডিও দেখে বোঝা যাবে না কোনটা সত্যিকার মানুষ আর কোনটা পুতুল । 

এইবার একটা কথা বলি , মানুষের ব্রেইনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার বানানো সম্ভব হলে সেটা দিয়ে কোনো প্রকার স্লো হবে না । আমাদের ব্রেইনের ক্ষমতা রয়েছে এক সাথে সব নিউরনকে সচল রাখতে আর কম্পিউটারের ব্রেইনের ক্ষমতা এতটা নেই । ব্রেইন এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো’র একটা হলো নিউরণ । সব কয়টি নিউরণ তার মতো আরো অনেক নিউরণের সাথে ইন্টার কানেক্টেড । নিউরণ গুলো সবসময় একে অপরের কাছে সিগন্যাল পাঠাচ্ছে । ব্রেইন এর নিউরণ আর কম্পিউটার এর নিউরণ এর মাঝে বিশাল পার্থক্য হচ্ছে ব্রেইন এক সাথে সব নিউরণ কে সচল রাখতে পারে , কম্পিউটার পারে না  । কম্পিউটারের একটা নিউরণের ফায়ার করতে একশো টা প্রসেস পার করতে হয় ।  তাই কম্পিউটার ব্রেইন দিয়ে কোনো গেম খেললে স্লো করে আর মানুষের জগৎ এ কোনো স্লো নেই । মানুষের ব্রেইন অনেক বেশি বাস্তবধর্মী , এমন কোনো ব্রেইন দিয়ে কম্পিউটার বানিয়ে গেম খেললে গেম এবং বাস্তব জগতের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । 

সহজ ভাষায় বলি , ফ্রী ফায়ারে যখন আপনি ক্লিক করেন তারপর সেটা সিগন্যাল পাঠায় আর সেই সিগন্যাল অনুযায়ী গেমের ক্যারেক্টার চলাফেরা করে । আমরা কোনো কাজ করতে চাইলে সেটা ব্রেইন করবে । ব্রেইন যখন আপনার হাতকে সিগন্যাল দিবে তখন আপনি সে অনুযায়ী হাত চালাবেন , আপনার পায়ে সিগন্যাল দিলে পা সেভাবে চলবে । আমরা যে কোনো বস্তকে দেখি এটা আসলে চোখের রেটিনায় পরে যার ফলে আমরা দেখতে পারি । একটি রোবট বানালে রোবট চালানোর  জন্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ প্রয়োজন।আসলে আলো যেমন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ঠিক তেমনি ভাবে যে রোবট আমার হুকুম মতো চলবে সেও তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে চলে। তার এবং আমার মধ্যে পার্থক্য কি ?  হতে পারে এই সিগন্যাল দেওয়া যন্ত্রের মতো আমরাও একটা পুতুল আমাকে যা ইশারা করা হয় সেটা আমি করি ।

৩.

কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী বিষয়টা হবে :- (স্রোডিঞ্জার বিড়াল পরীক্ষা আগে পড়ে আসতে হবে , এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে বলা হলো ),  একটা বাক্সে বদ্ধ অবস্থা বিড়াল রয়েছে । বাক্সের ভিতরে বিষ ও হাতুড়ি  রয়েছে এখন কোয়ান্টাম ইফেক্টের জন্য হাতুড়ির আঘাতে বিষের পাত্র ভাঙবে অথবা ভাঙবে না । কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী বিষের পাত্র ভাঙতে পারে আবার নাও পারে সুতরাং বিড়াল মরতেও পারে অথবা জীবিত  থাকতে পারে । যখন আমরা অবজার্ভ করি তখন বিড়াল একটা অবস্থায় এসে হাজির হয় ।

আবার ইলেকট্রন দিয়ে দ্বিচির পরীক্ষা করলে দেখা যায় ইলেকট্রন অবজার্ভ করার আগ মুহূর্তে একই সাথে দুইটা ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে কিন্তু যখনি অবজার্ভ করা হয়  তখনি ইলেকট্রন একটি অবস্থায় চলে আসে আর অন্য ঘটনা ধ্বংস হয় । এই যে প্রশ্ন হলো যে , দুইটা ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনা কেনো ঘটলো ? উত্তরটি খুবই সহজ ।    ঘটনা একটিই ছিল আর কিছু না । ঘটনার সব ক্যারেক্টার জানে আপনি কখন কি করবেন কিন্তু আপনি জানেন না। আপনি ফ্রী ফায়ার গেম খেলছেন ফ্যাক্টরি এলাকা আপনার কারেক্টর নিলেন দেখবেন ফ্যাক্টরির আসে পাশে যা যা আছে সব লোড হয়ে হাজির হয় ফ্যাক্টরি জানে আপনার ক্যারেক্টার সেখানে গেলে ফেক্টরির এলাকার কি করতে হবে । 

অধ্যাপক বেল বিবিসিতে একটি সভাতে বলেছে ,” অতিমাত্রিক গতি ( আলোর চেয়ে বেশি গতি) এবং ভূতের কান্ডের তত্ত্বটি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি উপায় আছে ‌ । এটি হলো সম্পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে মহাবিশ্বের পরম নির্ধারিতবাদ । ধরুন বিশ্ব চরম নির্ধারনবাদী , শুধুমাত্র পর্দার আড়ালে অবিরত ধেয়ে চলা জড় প্রকৃতির ক্ষেত্রেই নয় । বরং আমাদের আচরণসহ আমাদের বিশ্বাস যে আমরা স্বাধীনভাবে বেছে নিতে পারি যেকোনো পরীক্ষণ । এগুলো একেবারে পূর্বনির্ধারিত । এমনকি একজন পরীক্ষক কোনো পরিমাপসমূহ গ্রহণ করবে সেটাও ।” তাহলে জটিলতা দূর হলো আলোর থেকে দ্রুত বেগে যোগাযোগ করে A কনা এবং B কনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই । কারণ মহাবিশ্ব আগে থেকেই জানে A কণাকে কি করতে হবে এবং এর ফলাফল কি হবে ‌ । 

আপনি যখন বাক্স খুলবেন তখন দুনিয়া লোড হয়ে বিড়াল  মৃত অথবা জীবিত হবে । অন্যভাবে বলতে গেলে, দুইটা কণা এক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে , একটার স্পিন (+½) হলে অন্যটির (-½) হবে । এখন আলোর থেকে কণা দুইটি যোগাযোগ করতে পারবে না । তখন একটা কণার স্পিন(+½)  জানলে অন্যটির জানতে এক বছর সময় লাগবে । কিন্তু আমরা মুহুর্তের মধ্যে দ্বিতীয় কণার স্পিন (-½) জেনে গেলাম এটা কিভাবে হতে পরে? আলোর থেকে কোনো কিছুর বেগ বেশি নাই তাহলে কিভাবে সম্ভব ? সম্ভব একটা উপায়ে । যদি দ্বিতীয় কণা আগে থেকে জানে প্রথম কণার স্পিন (+½) হলে দ্বিতীয় কণার (-½) স্পিন হতে হবে । অর্থাৎ আগের থেকে সব কিছু পূর্বনির্ধারিত করা আছে । আগে থেকে আকাশ জানে আপনি কখন চাঁদ দেখবেন । তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো আপনি আকাশে তাকালে চাঁদ আকাশে থাকবে আর আপনি না তাকালে আকাশে চাঁদ থাকবে না !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *