Thu. Sep 23rd, 2021
ভূত কণা ।

“এমন একটা সময় ছিল যখন পত্রপত্রিকায় লেখা হতো যে দেশে মাত্র এক ডজন লোক আপেক্ষিক তত্ত্ব বুঝতে পেরেছেন । আসলে একটা সময় ছিল যখন মাত্র একজন ব্যক্তি তত্বটি বুঝতেন, কারণ তিনি প্রথম ব্যাপারটি ধরতে পেরেছেন ।  তারপর তিনি এই নিয়ে গবেষণা পত্র লেখেন । ওই গবেষণা পত্রটি পাঠের পর কোনো না কোনো লোক আপেক্ষিক তত্ত্বটি বুঝেছেন হয়তো তাদের সংখ্যা এক ভজন । অন্যদিকে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে চাই কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোনো ব্যক্তি বুঝতে পারে না “

                                                                                                                              (রিচার্ড ফাইনম্যান)

I think I can safely say that nobody understand quantum mechanics

                                                                                                                 (Richard Feynman)

আইনস্টাইন যখন আপেক্ষিক তত্ত্ব সবার সামনে তুলে ধরেন তখন বিশ্বে মাত্র 4 জন ব্যক্তি এই তত্ত্ব বুঝেছে এবং বাকি সবাই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল কারণ তারা আপেক্ষিক তত্ত্ব বুঝতে পারেনি । তারা আপেক্ষিক তত্ত্ব বুঝে নাই তাই হেসেছে ।

আজ 100 বছর হলো কেউ কোয়ান্টাম মেকানিক্স বোঝেনা এবং অদ্ভুত ঘটনা ঘটে কিন্তু কেউ হাসতে সাহস পায় না এবং এটাই সত্য বলে মেনে নিতে হয় । কোয়ান্টাম তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির সব কিছু জানা যায় না । 

এইদিকে মিস্টার বোর ঘোষনা করে দিয়েছেন ” কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়ে কেউ যদি সক না খায় তাহলে সে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বুঝে নাই ”

কেউ হয়তো ভুতের মুভি , ভুতের বই পড়তে এবং ভুতের গল্প করতে ভালোবাসে । তাদেরকে আমি বলবো এগুলো বাদ দেন । ভুতের মুভি দেখা বন্ধ করুন , ভূতের গল্প শোনা বাদ দেন । আপনারা কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়ুন , কোয়ান্টাম মেকানিক্স শুনুন , কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত আচরণ দেখুন । কোয়ান্টাম মেকানিক্স ভুতের বাবা এবং ভুতের থেকে বেশি ভয়ানক । আবার অনেকে সাইন্স ফিকশন পড়েন । আমি বলি কি এগুলো বাদ দিয়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়ুন , সাইন্স ফিকশনকে হার মানায়। সাইন্স ফিকশন সৃষ্টি হয়েছে তো কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে । তাহলে কেন আপনি সাইন্স ফিকশন পড়বেন ? কোয়ান্টাম মেকানিক্স সাইন্স ফিকশন থেকে বেশি অদ্ভুত । মারভেল মুভি এগুলো কিছুই না কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কাছে । 

একবারও কি মনে প্রশ্ন জাগে না আপনার হাতের মোবাইল , টিভি , কম্পিউটার এগুলো কিভাবে আসলো ? কার অবদান ? কোয়ান্টাম মেকানিক্স ভুতের অবদান । 

ছোটবেলা ভুতের গল্প শুনতাম যখন একটু বড় হলাম তখন বুঝলাম ভুতু – তুত বলতে কিছুই নাই । যখন কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়লাম তখন বুঝলাম ভূত বলতে শুধুমাত্র কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আছে । কোয়ান্টাম মেকানিক্স জগতে একই সাথে একটা ইলেকট্রন সব জায়গায় থাকতে পারে । ইলেকট্রন একসাথে সব জায়গায় থাকতে পারে ? এটা কিভাবে সম্ভব ? নিশ্চয়ই ইলেকট্রন এর সাথে কোনো ভুতুড়ে কান্ড ঘটে । ইলেকট্রন কোথায় থাকে বা ভবিষ্যতে কোথায় থাকবে সেটা কেউ জানে না । ইলেকট্রন বর্তমান কোথায় আছে এবং ভবিষ্যতে কোথায় থাকবে তার একটা সম্ভাবনা জানা যায় মাত্র । ইলেকট্রন কি নিজেও জানে না ইলেকট্রন বর্তমান কোথায় আছে ?

 

মানুষের জীবন যদি ইলেকট্রনের মতো আচরণ করতো তাহলে কেমন হতো ! হয়তো একটা মানুষ একসাথে ব্যাংক ডাকাতি এবং বাসায় থাকতে পারতো ।  কি ভয়ানক ব্যাপার ! কেউ ঘরের ভিতরে বন্দী অবস্থায় থাকলে আমরা বাইরে থেকে জানতে পারি না ভিতরে থাকা লোকটি কোন অবস্থায় রয়েছে । যদি কারো সাথে ঝগড়া করে ভিতরে অবস্থান করে এবং যদি ঘরে বিষের ওষুধ থাকে তাহলে বাইরে থেকে জানা যাবে না । ভিতরে সে কি অবস্থায় রয়েছে ?

বাইরে থেকে শুধু বলবো হয় বেঁচে আছে অথবা মরে আছে । কখনো বলবো না একই সাথে বেঁচে আছে এবং মরে আছে ।

কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী লোকটি একই সাথে বেঁচে আছে এবং মরে গেছে  । ভিতরে থাকা লোকটির অবস্থা জানতে হলে পর্যবেক্ষণ করতে হবে । এখন  যদি মরে যায় তাহলে এর জন্য যে পর্যবেক্ষণ করবে সে দায়ী । কারণ সে পর্যবেক্ষণ করেছে তাই লোকটি মারা গেছে । পর্যবেক্ষণ না করলে মৃত ও জীবিত অবস্থা থাকতো । কোয়ান্টাম মেকানিক্স আমাদের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে । কখনো আমরা আগে থেকেই প্রকৃতির সম্পর্কে জানতে পারবো না । কেউ কেউ দাবি করে আমাদের এই দুনিয়া গেমের মতো লোড হয় । আমরা যখন আকাশে চাঁদের দিকে তাকাই তখন চাঁদ লোড হয়ে আমাদের সামনে হাজির হয় ।  আমরা কোনো গেমের দুনিয়ার মতো জগতে বসবাস করি । আমরা সে গেমের জগতে সবাই নিজের নিজের ক্যারেক্টার নিয়ে কাজ করি । প্রশ্ন হলো , আমি যা দেখতেছি তা কতটুকু সত্য ? আপনি আমার লেখা পড়ছেন , সত্যি কি  এখন পড়ছেন ? আপনার হাতে এই বইটা আছে , সত্যি কি আপনার হাতে বই আছে নাকি অন্য কিছু ?  আমার হাতে কলম রয়েছে সত্যি কি এটা কলম ? নাকি অন্য কিছু রয়েছে যাকে কলম মনে করছি । আমরা কি ভুল কোনো জিনিসকে সঠিক মনে করছি ? 

” সত্যিকারের সমস্যাটা আমি সংজ্ঞায়িত করতে পারছি না , তাই আমার সন্দেহ হচ্ছে সত্যিকারের কোনো সমস্যা আদৌ আছে কিনা ? কিন্তু সত্যিকারে কোনো সমস্যা নেই এটা আমি নিশ্চিত নই “

                                                                                                                    (রিচার্ড ফাইনম্যান )

” আমি বেঁচে আছি আসলে কি আমি মহাবিশ্বে exists করি  ? “

                                                                                             (রেনডি. কার্ক )

কোয়ান্টাম জগত খুবই অদ্ভুত । কোনো  বস্তুকে ভাঙতে ভাঙতে এমন একটা সময় হবে যখন আর ভাঙা যাবে না । আর সেটার নাম অ্যাটম । সে জগতে ভুতুড়ে কান্ড ঘটে । একটা মার্বেল স্বাভাবিক নিয়মে নিউটনের গতিসূত্র মেনে চলে । এখন মার্বেল কে ভাঙতে ভাঙতে একটা সময় সে আর নিউটনের সূত্র মানবে না । মার্বেল তখন কোয়ান্টাম  জগতে চলে যাবে । মার্বেল কিভাবে বুঝলো সে নিউটনের দুনিয়া থেকে কোয়ান্টাম জগতে চলে গেছে ? বাহিরের থেকে যখন আমি ঘরে প্রবেশ করি একটা দরজা এর কারণের আমি বুঝতে পারি আমি অন্য জায়গা চলে এসেছি । মার্বেলের জন্য দরজা কি ? মার্বেল কিভাবে বুঝলো সে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দুনিয়াতে এসেছে । এখন তাকে ভুতরে কান্ড করতে হবে । মার্বেলের কি জ্ঞান বুদ্ধি আছে ? কোয়ান্টাম কনাদের কি জ্ঞান বুদ্ধি আছে ? তারা কিভাবে এমন ভুতের মতো চলা ফেরা করে ?

কোয়ান্টাম মেকানিক্সে ভুতের কাহিনী ঘটে । বাস্তব ভুতের থেকে বেশি ভয়ানক কোয়ান্টাম কণা । 

যদি আপনি বলেন আপনার হাতে বই আছে  তাহলে তার কি প্রমান আছে ? কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতে হতে পারে আপনার হাতে বই আছে । অথবা হতে পারে অন্য কিছু আছে যাকে আপনি বই মনে করছেন ! 

দুই আর দুই যোগ করলে চার হয় । এটা বাচ্চারাও পারে । কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী হতে পারে দুই আর দুই যোগ করলে চার হয় । কোয়ান্টাম মেকানিক্স ” হবে ” বলে না । কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে “হবে না” “হতে পারে” দুই আর দুই যোগ করলে চার । এই ” হবে না” থেকে ” হতে পারে ” এটাই হলো কোয়ান্টাম মেকানিক্স । 

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগতে আপনাকে স্বাগতম । 

2 thoughts on “ভয়ানক কোয়ান্টাম মেকানিক্স । ভূতের চেয়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ভয়ানক ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *