Thu. Oct 28th, 2021
YMC

১.

1927 সালে বোর কোপেনহেগেন থেকে বক্তব্য দেন ।‌ সে বক্তব্য আজ পদার্থবিজ্ঞানের কোপেনহেগেন ব্যাখ্যা নামে অমর হয়ে রয়েছে । কোপেনহেগেনের ব্যাখ্যা সোডিঞ্জার  মেনে নিলেও  আইনস্টাইন  তখনও  আপত্তি করেন ।‌ এক নজরে কোপেনহেগেনের ব্যাখ্যাটা দেখে নেই ।‌

  1. A wave function ψ  represents the state of the system. It encapsulates everything that can be known about that system before an observation; there are no additional “hidden parameters”. The wavefunction evolves smoothly in time while isolated from other systems.ওয়েভ ফাংশন একটি সিস্টেমের সম্পূর্ণ অবস্থাকে তুলে ধরে । পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি সিস্টেম সম্পর্কে যা কিছু জানা সম্ভব  ওয়েভ ফাংশনে তার সবকিছুই আছে । এর বাইরে কোনো লুকায়িত পরিমিতি নেই । অন্যান্য সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকলে ওয়েভ ফাংশন খুব সহজে পরিবর্তিত হয় ।
  1. The properties of the system follow a principle of incompatibility. Certain properties cannot be jointly defined for the same system at the same time. The incompatibility is expressed quantitatively by Heisenberg’s uncertainty principle. For example, if a particle at a particular instant has a definite location, it is meaningless to speak of its momentum at that instant.এই সিস্টেমের বৈশিষ্ট্যসমূহ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে । নিয়মগুলো একে অপরের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ । কিছু বৈশিষ্ট্য যৌথভাবে একই সময় একই সিস্টেমের জন্য সংজ্ঞায়িত করা যাবে না । হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি পরিমাণগত ভাবে অসংগতি প্রকাশ করে । উদাহরণস্বরূপ , যদি কোনো বিশেষ মুহূর্তে একটি কণা নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে , তাহলে ওই মুহূর্তে কনাটির ভরবেগ জানতে চাওয়া অর্থহীন ।
  1. During an observation, the system must interact with a laboratory device. When that device makes a measurement, the wave function of the systems is said to collapse, or irreversibly reduce to an eigenstate of the observable that is registered.পর্যবেক্ষণের সময় সিস্টেমটিকে অবশ্যই ল্যাবরটরি ডিভাইসের ( অর্থাৎ ডিটেক্টর বা ক‍্যামেরা ) সাথে সংযুক্ত করতে হবে । ডিভাইসটি যখন পরিমাপ করবে সিস্টেমের তরঙ্গ ফাংশন তখন collapse করবে ।
  2. The results provided by measuring devices are essentially classical, and should be described in ordinary language. This was particularly emphasized by Bohr, and was accepted by Heisenberg.পরিমাপকৃত যন্ত্র হতে প্রাপ্ত ফলাফলটি মূলত ক্লাসিক্যাল যা সাধারণ ভাষায় বর্ণনা করা উচিত । এটি বিশেষ ভাবে বোরের দ্বারা জোর দেওয়া হয়েছিল ।

  1. The description given by the wave function is probabilistic. This principle is called the Born rule, after Max Born. তরঙ্গ ফাংশন দ্বারা দেওয়া বিবরণ সম্ভাব্য । যেটাকে ম্যাক্স বর্নের রূল বলা হয় । 
  1. The wave function expresses a necessary and fundamental wave–particle duality. This should be reflected in ordinary language accounts of experiments. An experiment can show particle-like properties, or wave-like properties, according to the complementarity principle of Niels Bohr. ওয়েভ ফাংশন একটি সিস্টেমের অনিবার্য এবং মৌলিক কণা – তরঙ্গ দ্বৈততা প্রকাশ করে । নীলস বোরের পরিপূরক নীতি অনুযায়ী , একটি পরীক্ষণ কণা ধর্মও দেখাতে পারে অথবা তরঙ্গ ধর্মও দেখাতে পারে । 
  1. The inner workings of atomic and subatomic processes are necessarily and essentially inaccessible to direct observation, because the act of observing them would greatly affect them. পারমাণবিক এবং অতিপারমাণবিক প্রক্রিয়াসমূহে অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলী সরাসরি পর্যবেক্ষণযোগ্য নয় । কারণ পর্যবেক্ষণ করার কাজটি ঘটনাগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে । 
  1. When quantum numbers are large, they refer to properties which closely match those of the classical description. যখন কোয়ান্টাম সংখ্যা বড় হয় , তখন তারা এমন বৈশিষ্ট্যগুলোকে বোঝায় যা ক্লাসিক্যাল বর্ণনাগুলির সাথে মিলে যায় ।

২.

1935 সালে আইনস্টাইন অনিশ্চয়তা নীতি  আঘাত হানেন । এইবারে আঘাতটা বড় ছিল । আইনস্টাইনের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা ছিল অপরিসীম । অনিশ্চয়তা নীতির কারণে আজীবন অর্জিত জ্ঞান এইভাবে ধুলায় মিশে যাবে তিনি তা মেনে নিতে পারেনি ।  নিখুঁত থেকে নিখুঁতের হিসাব করে পাওয়া আপেক্ষিক তত্ত্ব । এই আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে  বেরিয়ে আসা ভয়ঙ্কর সব ব্যাপার দেখে অভ্যস্ত আইনস্টাইন কিন্তু দুঃখের কথা হলো যে আজ বড় চিন্তিত আইনস্টাইন। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভয়ঙ্কর নিয়ম গুলো আজগুবি । কিছুতে  হজম করা যায় না এইসব অদ্ভুত আইন । আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রধান স্বীকার্য হলো আলোর  থেকে বেশি বেগে কোন বস্তু যোগাযোগ করতে পারবে না ।  ইলেকট্রনের ও সম্ভব নয় আলোর থেকে বেশি বেগে যোগাযোগ করার । তোপের মুখে টুপি পরাতে গিয়েছিলেন   আইনস্টাইন । 1935 সালে EPR   paradox নামে একটা পেপার প্রকাশ করেন । EPR শব্দটি Einstein–Podolsky–Rosen এর নাম অনুসারে ।

৩.

আমরা এতক্ষণে স্রোডিঞ্জার বিড়াল পর্বে দেখেছি বাক্সে থাকা বিড়ালকে পর্যবেক্ষণ করার পর বিড়াল জীবিত ও মৃত হয় আর পর্যবেক্ষণ না করলে জীবিত ও মৃত একসাথে থাকে । কোন বস্তুকে অবজার্ভ করলে  তার তরঙ্গ ফাংশন Collapse   করবে । তরঙ্গ ফাংশন সকল  স্টেট থেকে যে কোনো  একটি স্টেট বেছে নিবে । অবজার্ভ করার আগে ইলেকট্রন একইসাথে একাধিক অবস্থানে ছিলো, ইলেকট্রনের একই সাথে একাধিক ভরবেগ ছিলো । যখন আমি জেনে যাবো ইলেকট্রনের ভরবেগ কত যার অর্থ আমি ইলেকট্রন কে অবজার্ভ করছি ।  অবজার্ভ করার আগে আমার নাম সবকিছু ছিলো । যখন আমার নাম জানলেন তখন তার অর্থ আমাকে অবজার্ভ করছেন ।

আইনস্টাইন একটি চিন্তন পরীক্ষা দিয়েছেন মনে করুন শূন্য থেকে সৃষ্টি একজোড়া কনা । যাদের ভরবেগ সমান । একজনের ভরবেগ জানা  মাত্র অন্যটির ভরবেগ জানা যাবে । এখন বস্তু দুটি সৃষ্টি হবার পর তারা দুই দিকে চলতে চলতে এক আলোক বছর দূরে অবস্থান করলো । একটি কণা পৃথিবীতে অবস্থান করলো । এখন আমরা যদি পৃথিবীর কণার ভরবেগ মাপি তাহলে পৃথিবীতে  থাকা কনার তরঙ্গ ফাংশন Collaps করবে এবং পৃথিবীর কনার ভরবেগ নিশ্চিতভাবে  জেনে যাবো । কিন্তু এক আলোকবর্ষে দূরে থাকা কণার তরঙ্গ ফাংশন Collapse করতে এক বছর লাগবে । কারণ কনা আলোর থেকে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবে না । আর যদি এক আলোকবর্ষ দূরে থাকা কনা 1 বছর আগে তার তরঙ্গ ফাংশন Collaps না করে তাহলে তার ভরবেগ এক বছর পর ছাড়া জানতে পারবো না । কিন্তু যেহেতু 2 টা কনার ভরবেগ সমান তাই দূরে থাকা কণার ভরবেগ Collapse করা  ছাড়াই  জানতে পারবো । তার অর্থ অনিশ্চয়তা নীতি পুরোপুরি ঠিক নয় । কনাদের কোনো গোপন নিয়ম কানুন আছে যা আমরা জানি না তাই অনিশ্চয়তা এসেছে ।‌

৪.

পরবর্তীতে বোর  EPR নামে আরেকটি পেপার প্রকাশ করেন ।  আসলে কনা যখন সৃষ্টি হয় তখন তাদের ভেতর ভালোবাসা তৈরি হয় । ইলেকট্রন যত দূরে থাকুক না কেন তারা তাদের ভালোবাসার কারণে আলোর থেকে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে । একটা বাক্সে দুইটা মার্বেল আছে । একটা লাল অন্যটা নীল । আপনি এবং আপনার বন্ধু চোখ বন্ধ করে দুইটা মার্বেল নিয়ে  এক আলোকবর্ষ দূরে গেলেন । আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি একটি মারবেন নিয়ে গেছেন কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী  আপনি অবজার্ভ করার আগে একসাথে দুইটা মার্বেল নিয়ে গেছেন । যখনি আপনি অবজার্ভ করবেন তখন আপনার মার্বেলের তরঙ্গ ফাংশন Collaps করে যে কোন একটি রং হবে । সাথে সাথে আপনি আপনার বন্ধুর মার্বেলের রং জেনে যাবেন । 

একটা কথা বলে রাখা ভালো এখনো পর্যন্ত আলোর থেকে দ্রুত বেগে চলতে পারে এমন কোনো কণা আবিষ্কার হয়নি । আলোর থেকে দ্রুত বেগে চলতে পারে এমন কোন কণা প্রমাণ হলে আপেক্ষিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হবে । দুইটা কনা আলোর থেকে দ্রুত বেগে যোগাযোগ না করতে পারলে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ভুল প্রমাণিত হবে । আর এজন্যই EPR পেপারকে  Paradox বলা হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *