Thu. Oct 28th, 2021
YMC

আলো আমাদের সবচেয়ে পরিচিত  বিষয়বস্তু  । প্রভাতে সূর্যের আলো ,নিশিথে চাঁদের জোৎস্না , মিট মিট করে জ্বলে জোনাকির আলো , টিউব লাইটের আলো এগুলো সবই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত । সৃষ্টির আদি লগ্ন হতে কল্পনায় জল্পনায় আমরা আলোকে সকল কাজে কর্মে ব্যবহার করে আসছি । কিন্তু তবুও কেন জানি মনে হয় আলোই আমাদের নিকট সবচেয়ে অপরিচিত বিষয় ।সেই প্রাচীন যুগে মানুষ মনে করতো সবকিছু মাটি, বাতাস, আলো ( আগুন ) দ্বারা সৃষ্টি । তাহলে প্রশ্ন ওঠে আলো সৃষ্টি কি দ্বারা ? আলোকে কি আমরা দেখি ? বস্তুকেই বা আমরা কেন দেখি ?

 সেই প্রাচীনকাল থেকে অনেক দার্শনিক আলো সম্পর্কে অনেক মতামত দিয়ে যাচ্ছেন । বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক ও গণিতবিদ ইউক্লিড মনে করতেন , মানুষের চোখ হতে আলো এসে বস্তুতে পড়ে এবং আমরা বস্তুকে দেখতে পাই  ।  প্রায় ১৫০০ শত বছর ধরে মানুষ এই ভুল ধারণাটিতে বিশ্বাস করে এসেছে । কোন বস্তুকে দেখার জন্য চোখ আলোক নিঃসরণ করে না বরং বস্তু হতে আলো এসে চোখে পড়লেই আমরা বস্তুটিকে দেখি । এ ধারণাটি এখনকার দিনে বাচ্চারাও জানে । কিন্তু 1000 খ্রিস্টাব্দ এর পূর্বে এই ব্যাপারে চিন্তা করাও দুঃসাহসের ব্যাপার ছিল । আর এই ধারণাটি প্রথম প্রকাশ পায় আল হাজেনের হাত ধরে । হাসান ইবনে আল – হাইসাম পশ্চিম বিশ্বে যিনি আল হাজেন নামে পরিচিত। 

প্রাচীনকালে আলোকবিজ্ঞানে ইউক্লিড ও টলেমির ধারণা বেশ জনপ্রিয় ছিল । ইউক্লিডের আলোক নিঃসরণ তত্ত্ব , যেখানে ইউক্লিড মনে করতো ,” চোখ হতে বস্তুতে আলো পড়ে এবং আমরা সেই বস্তুকে দেখি ” এবারও টলেমি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ইউক্লিডের তত্ত্বকে প্রাণ দিয়েছেন যেমন ভুল সূত্র দিয়েছিলেন গ্রহ উপগ্রহের গতি সম্পর্কে । আলোকবিজ্ঞানে প্রথম সঠিক ধারণা দেন এক মুসলিম  বিজ্ঞানী আল হাজেন । তিনি 1011 খ্রিস্টাব্দ  থেকে 1021 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে আলোক বিজ্ঞানের উপর সাত খন্ডের  একটি কিতাব রচনা করেন যেটা কিতাব আল মানযির নামে পরিচিত । যার ইংরেজি সংস্করণ বুক অফ অপটিকস নামে পরিচিত । প্রাচীন ইউক্লিড ও টলেমির তথ্য ভুল , সেটাও আবার বলেছেন কোথাকার কোন আরব বিজ্ঞানী  ! তাই প্রথমদিকে মানুষ মেনে নেয়নি | তখন ইবনে সিনা তার তত্ত্বকে সমর্থন করেছিলেন ।

                                 আল হাজেন যিনি আলো সম্পর্কে গবেষণায় প্রথম সফল বিজ্ঞানী

আল হাজেনই প্রথম ব্যক্তি তিনি যিনি বুঝতে পেরেছিলেন মাধ্যমের পরিবর্তন হলেই আলোর বেগের তারতম্য ঘটে । ঘন মাধ্যমে আলোর বেগ কমে যায় । আল হাজেনের তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে কেপলার গবেষণা করেন এবং শেষে আলোক বিজ্ঞানের উপর একটি বই লেখেন এবং নিউটন আলোর কণা ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেন কেপলার এর বই থেকে ।

তথ্যসূত্র :

[1] নিশ্চয়তা নীতি কোয়ান্টাম বলবিদ্যা, মোহাম্মদ ইয়াছিন
[2] হাসান ইবনে আল-হাইসাম , উইকিপিডিয়া
[3] বিজ্ঞানের আলোক ভ্রমণ : আল হাজেন থেকে আইনস্টাইন ,বিজ্ঞান পত্রিকা আব্দুল গাফফার রনি ,
[4] https://steemit.com/science/@rubai18/travel-to-science-light-einstein-from-al-hajen
[5]https://www.researchgate.net/publication/261744073_Ibn_al-Haytham_965-1039_AD_The_original_portrayal_of_the_modern_theory_of_vision
[6] https://doi.org/10.1007/978-1-4020-4425-0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *