Thu. Oct 28th, 2021
YMC

1.

দূর-দূরান্তের খোলা মাঠের বা নদীর দিকে তাকালে মনে হয় ঐখানে বুঝি আকাশটা নেমেছে  । হয়তো ওটাই শেষ সীমানা ।‌ ঐই স্থানে গেলে তখন কিছুক্ষন আগের চিন্তা ভুল প্রমাণিত হয় , তখন মনে হয় হয়তো আরো সামনে আকাশটা নেমেছে । আসলে কি আকাশের শেষ ঠিকানা সেটা ? একটা সময় দার্শনিকরা মনে করতেন মহাবিশ্ব বৃহস্পতি গ্রহের সমান । তারপর যদি কিছু থাকে সেটা স্বর্গ ও নরক  । তখন মহাবিশ্বের কেন্দ্র পৃথিবীকে মনে করা হতো । তারা মনে করতেন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সবকিছুই আবর্তন করছে । যুগ যুগ ধরে এই ধারণা টিকে  থাকলেও গ্যালিলিওর  এর জন্মের পর সে ধারণা বাতিল হয় । তখন জানা  যায় পৃথিবী নয় সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহ-উপগ্রহ ‍ ‍আবর্তন করে । 

1915 সালে আইনস্টাইন তার সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্বে দেখতে পান মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল । আইনস্টাইন নিউটনের মতো স্থির  মহাবিশ্বে বিশ্বাসী ছিলেন । তাই সেটা ইগনোর করলেন  । 1924 সালে এডউইন হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে দেখতে পান গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় ।  গ্যালাক্সিগুলো  যদি সত্যি একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় তাহলে একটা সময় গ্যালাক্সি গুলো একত্রে ছিল । আর সেখান থেকে মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে । সেটা বিগব্যাং নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন প্রায় 13.8 বিলিয়ন (1 হাজার 380 কোটি ) বছর আগে বিগব্যাং এর  মধ্যে মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু হয় । মহাবিশ্বের প্রতিটি বিন্দু একে অপরের থেকে দূরে সরে সরে যাচ্ছে । প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন মহাবিশ্বের ব্যাস 13.8×2 = 27.6 বিলিয়ন আলোক বর্ষ যা পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয় । এখন  পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বেকে অবজার্ড করতে পেরেছেন 93 বিলিয়ন আলোকবর্ষ ব্যাস পর্যন্ত । শুরুর দিকে মহাবিশ্ব কি হারে বেড়েছে তা জানা যায়নি । তবে ইনফ্লেশনারি তত্ত্ব মতে ধারণা করা হয় মহাবিশ্ব শুরু হওয়ার 10-36  second এর মধ্যে মহাবিশ্ব 1026 গুণ বৃদ্ধি পায় । কিন্তু 10-43  প্ল্যাংক  কালের  আগে মহাবিশ্ব কি ঘটেছিল  সে সম্পর্কে আমরা খুবই কম জানতে পেরেছি । আমরা মহাবিশ্বকে 93 বিলিয়ন আলোকবর্ষ পর্যন্ত দেখতে পেরেছি । এই 93 বিলিয়ন ব্যাসের মাত্র  4% হলো  দৃশ্যমান বস্তু আর বাকি 96% অদৃশ্য বস্তু । দৃশ্যমান মহাবিশ্বে যে পরিমাণ তারা রয়েছে সে পরিমাণ বালির কণাও এই পৃথিবীতে নেই ।  মহাবিশ্বের প্রায়  100 বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে । প্রতিটা  গ্যালাক্সিতে প্রায়( 200- 400) বিলিয়ন তারা রয়েছে । সে হিসাব অনুযায়ী মহাবিশ্বে প্রায় 10 সেক্সটিলিয়ন তারা রয়েছে যা মহাবিশ্বের বালি কনার থেকে 6 সেক্সটিলিয়ন বেশি ।

2.

এইযে এতক্ষণ যা বললাম মহাবিশ্বের ভিতরে এগুলো অবজার্ভ করা হয়েছে  । অবজারভেশন অনুযায়ী মহাবিশ্বের ব্যাস 93 বিলিয়ন আলোকবর্ষ । সে অনুযায়ী মহাবিশ্বের আয়তন 4×1080m3 ।  আমরা এটাও জানিনা মহাবিশ্ব কি অসীম নাকি তার একটা সীমানা আছে ? হতে পারে মহাবিশ্বের আয়তন অসীম।  যদি মহাবিশ্ব আয়তন অসীম  হয় তাহলে সেটা হবে আমাদের অবজারভেশনের  বাহিরে ।  মহাবিশ্বে অসীম হলে তারা ,গ্রহ কী  পরিমানে থাকবে সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন । অসীম মহাবিশ্ব ঘুরে ফিরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অসীমের তো আর শেষ নেই । তখন গ্রহ বিপুল পরিমাণ থাকবে। হয়তো কোনো একটি গ্রহ রয়েছে যেখানে মানুষের মত কোন প্রাণী রয়েছে । আরো দূরে হয়তো আপনার মত হুবহু দেখতে কেউ রয়েছে । যারা শুধু দেখতেই  আপনার মতো নয় তাদের আত্মাটাও আপনারই মতো । এভাবে অসীম এর মধ্যে খুঁজলে হয়তো আপনার অনেক টুইন পাওয়া যাবে । যাদের একেক জন একেক কাজ করে । হয়তো কোনো জায়গা  আপনি  জন্মও হন নাই অথবা আরো  অনেক আগে মারা গেছেন । মহাবিশ্ব অসীম হলে এটা ঘটতে পারে । 

3.

আমরা সহজে একটা উদাহরণ দেই । মসজিদে অনেক ফ্যান থাকে । ফ্যান গুলো বন্ধ অবস্থায় একেক ফ্যানের পাখা একেকটা একেক রকম পজিশনে  থাকে । 2টা ফ্যানের দিকে তাকালে তাদের একই অবস্থায় পাওয়ার সম্ভবনা প্রায় শূন্য । ফ্যান 3,4,5.. .. .. এইভাবে বাড়তে থাকলে তখন দুইটা ফ্যানের মধ্যে একই অবস্থা থাকার সম্ভবনা বেড়ে যাবে । মসজিদ যতো বড় হবে ফ্যানের সংখ্যা ততো বেশি হবে তখন স্থির থাকা দুইটা ফ্যানের মধ্যে একই অবস্থা থাকার সম্ভবনা বেশি । ঠিক তেমনি আমি , আপনি পরমাণু দ্বারা সৃষ্টি । হাইড্রোজেন পরমাণুর কথা চিন্তা করি ! দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে মিল থাকার সম্ভবনা কেমন ? অনেকটা মসজিদের মতো , হাইড্রোজেনকে ফ্যান হিসেবে এবং হাইড্রোজেনের ইলেকট্রনকে ফ্যানের পাখা হিসাবে কল্পনা করুন। দুইটা পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন একই অবস্থা থাকার সম্ভবনা খুব কম যদি মসজিদ বড় হয় তখন ফ্যানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় আর তখন দুইটা পাখার অবস্থান এক হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় । স্পেস বড় হলে পরমাণুর সংখ্যা বেড়ে যাবে তখন দুইটা পরমাণুর মধ্যে মিল হবার সম্ভবনা বেড়ে যাবে । 

এখন যদি মসজিদের ফ্যানের পাখার সংখ্যা 4,5.. .. ..  হতো তখন দুইটা ফ্যানের পাখার অবস্থা এক রকম হওয়ার জন্য মসজিদের আকার বড় করে পাখার সংখ্যা বাড়াতে হবে । যখন পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা বেড়ে যায় তখন দুইটা পরমাণু এক হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় তখন পরমাণুর সংখ্যা বাড়াতে হয় । পরমাণুর সংখ্যা বাড়ালে স্পেস প্রয়োজন হয় । আপনার শরীরের সব কয়টি পরমাণু-গুলো অন্য কোনো মানুষের শরীরের পরমাণুর মিল থাকার সম্ভবনা কম ,যদি মহাবিশ্বের আকার অসীম হয় তখন আপনার মতো অন্য কোনো একজন মানুষ থাকার সম্ভবনা আসে। যদি আপনার মতো কেউ থাকে তাহলে সে আপনার টুইন । অসীম আয়তনে মহাবিশ্ব হলে।অনেক সংখ্যক পৃথিবী থাকতে পারে তখন আপনিও অন্য পৃথিবীতে থাকার সম্ভবনা রয়েছে । 

এখন আপনি আমার লেখা পড়ছেন হয়তো অন্য কোনো পৃথিবীতে আপনার টুইন ঘুমাচ্ছে অথবা স্কুলে। হতে পারে সে জন্ম হয়ে মৃত হয়ে গেছে , হতে পারে সে এখনো জন্ম হয়নি , হতে পারে এখন আপনার   গফ/বফ এর সাথে আপনার বিয়ে চলতেছে । হতে পারে আপনি এই পৃথিবীতে খুব ভালো মানুষ অন্য কোনো জায়গা আপনি হিটলার । হতে পারে হিটলার অন্য কোনো পৃথিবীতে ভালো মানুষ ।যদি মহাবিশ্ব অসীম হয় তখন এগুলো ঘটার সম্ভবনা আসে । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *